1. admin@ukbanglanews.com : UK Bangla News : Tofazzal Farazi
  2. kashemfarazi8@gmail.com : Abul Kashem Farazi : Abul Kashem Farazi
  3. tuhinf24@gmail.com : Firoj Sabhe Tuhin : Firoj Sabhe Tuhin
সিনহা হত্যা মামলা: জবানবন্দির ব্যাপারে অনড় ছিলেন সাক্ষীরা - UK বাংলা News
শুক্রবার, ১২ অগাস্ট ২০২২, ০৫:৩১ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
লন্ডনে দুই বছরে ৬০০ শিশুর দেহ তল্লাশি, বেশির ভাগ কৃষ্ণাঙ্গ রেল কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর মহিউদ্দিন রনির আন্দোলন স্থগিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে দেশে কোনো সংকট নেই, সংকট আছে বিএনপিতে এবং তাদের নেতৃত্বে ও সিদ্ধান্তে। ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া আর নেই করোনায় আক্রান্ত বাইডেন আমরা নির্বাচন কমিশন চিনি না : মির্জা আব্বাস সরকারি কর্মকর্তাদের স্যুট পরে অফিস না করার পরামর্শ রাজধানীর লোডশেডিংয়ের তালিকা প্রকাশ প্রবল বৃষ্টি, ভারতের ১০টি রাজ্যে বন্যা, ধস, মৃত বহু 2022 গ্যাস ও বিদ্যুৎ–সংকটে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত

সিনহা হত্যা মামলা: জবানবন্দির ব্যাপারে অনড় ছিলেন সাক্ষীরা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ১২৬ বার
সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের তৃতীয় দফায় দ্বিতীয় দিনে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকসহ দুইজন সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম জানান, মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে এ সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় এবং তা শেষ হয় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়।

তৃতীয় দফায় দ্বিতীয় দিনে সাক্ষ্য দিয়েছেন, কক্সবাজার সদর হাসপাতালে সিনহার মৃতদেহের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক রণধীর দেবনাথ এবং টেকনাফের মারিশবুনিয়া এলাকার যে পাহাড় (মুইন্ন্যা পাহাড়) থেকে সিনহা নামার পর যেই মসজিদের মাইকে এলাকাবাসী ডাকাত বলে প্রচার করেছিল সেটির ইমাম হাফেজ জহিরুল ইসলাম।

এর আগে গত ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত মামলার প্রথম দফার সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। এতে সাক্ষ্য দেন মামলার বাদী ও সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস এবং ২ নম্বর সাক্ষী ঘটনার সময় সিনহার সঙ্গে একই গাড়িতে থাকা সঙ্গী সাহেদুল সিফাত। পরে গত ৫ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দ্বিতীয় দফায় ৪ দিনে আরও চারজন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। তৃতীয় দফায় প্রথম দিনে তিনজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। আর দ্বিতীয় দিনে সাক্ষ্য দিয়েছেন ২ জন। এতে মামলায় আরও ৭২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে।

সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মামলার ১৫ আসামিকে প্রিজন ভ্যান করে কড়া পুলিশ পাহারায় আদালতে আনা হয়।

পিপি ফরিদুল বলেন, মঙ্গলবার সকালে সিনহা হত্যা ঘটনার উৎপত্তিস্থল টেকনাফের মারিশবুনিয়া এলাকার মসজিদের ইমাম হাফেজ জহিরুল ইসলামের জবানবন্দি গ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলার তৃতীয় দফায় দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। তিনি মামলায় দশম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন। সকাল ১১টায় তার জবানবন্দি প্রদান শেষে আসামির আইনজীবীরা জেরা শুরু করেন। দুপুর ২টায় আদালত ১ ঘণ্টার বিরতি দেন। বিকাল ৪টায় তার জেরা শেষ হয়।

এরপর মামলার ১১তম সাক্ষী হিসেবে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে সিনহার মৃতদেহ ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক রণধীর দেবনাথ জবানবন্দি দেন। তাকে আসামির আইনজীবীরা সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত জেরা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের এ আইনজীবী বলেন, এই মামলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ডাক্তার রণধীর দেবনাথ। তিনি সিনহার মৃতদেহের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ছিলেন। আসামির আইনজীবীরা জেরা করার সময় তিনি খুবই সুন্দর ও সুস্পষ্টভাবে জবাব দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে হোটেলে ওঠার দু’দিন পর তরুণীর মরদেহ উদ্ধার

ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকরা যে রিপোর্ট দিয়েছেন, সেই রিপোর্টের উপর তারা (চিকিৎসকরা) আদালতে হুবহু অবস্থান নিয়েছেন। এছাড়া যিনি মসজিদের ইমাম ছিলেন জহিরুল ইসলাম, উনি যে ঘটনাটা দেখেছেন প্রত্যক্ষভাবে হুবহু আদালতে উপস্থাপন করেছেন বলেও জানান তিনি।

ফরিদুল বলেন, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জবানবন্দি দেয়া দুই সাক্ষীকে জেরা করেছেন। সাক্ষীরা তাদের জবানবন্দির ব্যাপারে অনড় ছিলেন। এছাড়া জবানবন্দিতে টেকনাফের মইন্ন্যা পাহাড়ে ডাকাত সাব্যস্ত করে হত্যা করার যে পরিকল্পনা তা সাক্ষী জহিরুল ইসলামের বক্তব্যে ফুটে উঠেছে।

মামলার সাক্ষী হাফেজ জহিরুল ইসলাম আদালতে যে বক্তব্য দিয়ে ওই কথাগুলো আবার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে (তদন্ত প্রতিবেদনে) বলেননি এবং আদালতে সেই কথাগুলো অতিরঞ্জিত ও মনগড়াভাবে বলেছেন জানান, আসামি ওসি প্রদীপের আইনজীবী রানা দাশগুপ্ত।

রানা বলেন, সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, কথিত ভিকটিম মেজর সিনহার মৃতদেহকে যিনি সুরতহাল রিপোর্ট পাওয়ার পরে ময়নাতদন্ত করেছিলেন তিনি আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তার সাক্ষ্য মামলার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম থেকেই বলা হচ্ছিল, লিয়াকত গুলি করেছে। আর ওসি প্রদীপ একপর্যায়ে এসে বুথ পড়া পা দিয়ে তার (সিনহা) গলা টিপে ধরেছে। কিন্তু ইনজুরি রিপোর্টে দেখা যায়, গলাও অক্ষত, শ্বাসনালীও অক্ষত, মুখমণ্ডলও অক্ষত। কোথাও নাই কোন বিবৃতি, গলায় নাই কোন বুথ জুতার চাপ।

সেখানে (ইনজুরি রিপোর্টে) পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, যে আঘাতগুলো মেজর সিনহা কথিত মতে প্রাপ্ত হয়েছেন এবং তার মৃত্যুটা হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে। সেখানে আমরা বলতে চাই, তাহলে কথিতভাবে যে ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের যে অভিযোগটি শুরু থেকেই প্রচারণা হয়েছে, এখানেও (আদালতে) আনা হয়েছে। বাস্তবতা তার কোন আইনগত ভিত্তি পাওয়া গেল না বলেন আসামির এ আইনজীবী।

রানা বলেন, যেহেতু সুরতহাল রিপোর্ট এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের কোথাও গলায় ও মুখমণ্ডলে বুথ জুতার আঘাতের তথ্য উল্লেখ নাই; আর মেজর সিনহার মৃত্যুর সবটাই ঘটেছে গুলির আঘাতে। তাহলে গুলির আঘাত যদি হয়ে থাকে, গলায়, মুখমণ্ডল সবটাই যদি ইনটেক হয়ে থাকে। এতে সিনহার মৃত্যুর জন্য প্রদীপের দায় কোথায় বলে প্রশ্ন রাখেন আসামির এ আইনজীবী।

গত বছর ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

আরও পড়ুন: দুই মামলায় হেলেনা জাহাঙ্গীরের জামিন

এ ঘটনায় গত বছর ৫ আগস্ট সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া তদন্ত সাবেক ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় লিয়াকত আলীকে। আদালত মামলার তদন্ত ভার দেয়া হয় র‍্যাবকে।

ঘটনার ৬ দিন পর ওসি প্রদীপ ও পরিদর্শক লিয়াকতসহ ৭ পুলিশ সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় একটি এবং রামু থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করেন। পরে র‍্যাব পুলিশের দায়ের মামলার ৩ সাক্ষী এবং শামলাপুর চেকপোস্টে দায়িত্বরত আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) এর ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। এরপর গ্রেপ্তার করা হয় টেকনাফ থানা পুলিশের সাবেক কনস্টেবল রুবেল শর্মাকে। সর্বশেষ গত ২৪ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন টেকনাফ থানার সাবেক এএসআই সাগর দেব।

গত বছর ১৩ ডিসেম্বর র‍্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের তৎকালীন দায়িত্বরত সহকারী পুলিশ সুপার খাইরুল ইসলাম ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

গত ২৭ জুন আদালত ১৫ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এতে সাক্ষী করা হয় ৮৩ জনকে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2022 UK বাংলা News
Design & Developed By SSD Networks Limited
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
error: Content is protected !!