1. admin@ukbanglanews.com : UK Bangla News : Tofazzal Farazi
  2. kashemfarazi8@gmail.com : Abul Kashem Farazi : Abul Kashem Farazi
  3. tuhinf24@gmail.com : Firoj Sabhe Tuhin : Firoj Sabhe Tuhin
বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ০৮:৫০ অপরাহ্ন

গ্যাসের দাম ১১৭ ভাগ বৃদ্ধি!

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২২
  • ৭৯ বার

সব শ্রেণীর গ্রাহকের গ্যাসের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে বিতরণ কোম্পানিগুলো। আবাসিক গ্রাহকের ব্যবহৃত প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ৯ টাকা ৩৬ পয়সা থেকে ২০ টাকা ৩৫ পয়সা এবং শিল্পে ব্যবহৃত প্রতি ঘনমিটারের গ্যাসের দাম ১০ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২৩ টাকা ২৪ পয়সা নির্ধারণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সাথে ক্যাপটিভে (শিল্পকারখানায় নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাস) ১৩ টাকা ৮৫ পয়সার স্থলে ৩০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৬টি গ্যাস বিতরণ কোম্পানির মধ্যে তিনটি তিতাস, বাখরাবাদ ও পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি গত সপ্তাহে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) পৃথকভাবে এই প্রস্তাব জমা দিয়েছে। বাকি তিনটি কোম্পানির প্রস্তাব জমা দেয়ার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ প্রস্তাব আমলে নিলে আবাসিকে এক চুলা ৯২৫ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার টাকা এবং দুই চুলার ক্ষেত্রে ৯৭৫ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ১০০ টাকা হবে। পেট্রোবাংলার এক দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

এ দিকে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আবারো মানুষের আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমনিতেই গত দুই বছরে করোনার প্রাদুর্ভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য মন্দা ছিল। এ অবস্থায় গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে সব শ্রেণীর পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। একই সাথে আবাসিকে গ্রাহকদের দুর্ভোগ আরো বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, গ্যাস সঙ্কট কাটাতে উচ্চমূল্যে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। এতে বিতরণ কোম্পানিগুলোর ভর্তুকির চাপ বেড়ে গেছে। এ ভর্তুকির চাপ সামলাতে গত মাসে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে আর্থিক মুদ্রা ও মুদ্রা বিনিময় হার সংক্রান্ত কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল। এরপর ৩ জানুয়ারি জ্বালানি বিভাগ গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব বিইআরসিতে পাঠানোর জন্য পেট্রোবাংলাকে নির্দেশনা দেয়। পরে পেট্রোবাংলা থেকে আমদানি করা এলএনজি ও দেশীয় গ্যাসের দাম, ভ্যাট-ট্যাক্স, বিভিন্ন তহবিলের চার্জ ধরে একটা খসড়া হিসাব বিতরণ কোম্পানিগুলোতে ৫ জানুয়ারি পাঠানো হয়। এরপর বিতরণ কোম্পানিগুলো নিজেদের আয়-ব্যয় হিসাব উল্লেখ করে প্রায় একই ধরনের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব কমিশনে পাঠায়। একই সঙ্গে কোম্পানিগুলো নিজেদের পরিচালন ব্যয় (মার্জিন) বৃদ্ধির প্রস্তাব জমা দিয়েছে। সর্বশেষ গত ১৭ জানুয়ারি বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি তাদের প্রস্তাব বিইআরসিতে পাঠিয়েছে।

প্রস্তাবগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তিনটি বিতরণ কোম্পানি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রায় অভিন্ন প্রস্তাব জমা দিয়েছে। সার ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটারে ১২৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৪ টাকা ৪৫ পয়সা থেকে ৯ টাকা ৬৬ পয়সা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। শিল্পে ব্যবহৃত ক্যাপটিভে ১১৬ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। হোটেল-রেস্টুরেন্টে ১১৭ শতাংশ দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। এ খাতে ২৩ টাকা থেকে ৫০ টাকায় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে ১১৭ শতাংশ বাড়িয়ে ১৭ টাকা ৪ পয়সা থেকে ৩৭ টাকা ২ পয়সা, সিএনজিতে ১১৪ শতাংশ বাড়িয়ে ৩৫ টাকা থেকে ৭৫-৭৬ টাকা এবং আবাসিক মিটারে ১১৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১২ টাকা ৬২ পয়সা থেকে ২৭ টাকা ৩৭ পয়সা করার প্রস্তাব করেছে বিতরণ কোম্পানিগুলো। একই সাথে তিতাস তার পরিচালন মার্জিন ২৫ পয়সা থেকে বড়িয়ে ৩৮ পয়সা, জালালাবাদ ৫৫.১৮ পয়সা এবং বাখরাবাদ ২৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৭৬.৮৪ পয়সা করার আবেদন করেছে।

প্রস্তাবগুলোর মধ্যে বাখরাবাদ গত ১৭ জানুয়ারি দিনের শেষ ভাগে বিইআরসির কাছে দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব জমা দিয়েছে। বাখরাবাদের প্রস্তাবে আবাসিকে প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারী গ্রাহকদের প্রতি ঘনমিটারের বিদ্যমান মূল্য ১২ টাকা ৬০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২৭ টাকা ৩৭ পয়সা, হোটেল-রেস্টুরেন্টে ২৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৯.৯৭ টাকা, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে ১৭.০৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৭.০২ টাকা, ক্যাপটিভ পাওয়ারে ১৩.৮৫ টাকা থেকে ৩০.০৯ টাকা, চা শিল্পে ১০.৭০ টাকা বাড়িয়ে ২৩.২৪ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্য দিকে বিদ্যুৎ ও সার কারখানায় থাকা বিদ্যমান দর ৪.৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯.৬৬ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। গড়ে দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে ৯.৩৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০.৩৫ টাকা।

দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বিতরণ কোম্পানিগুলো তাদের প্রস্তাবে বলেছে, এলএনজি আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় চলতি অর্থবছরে দেশী-বিদেশী গ্যাস কেনা ও সরবরাহ, পরিচালন ব্যয়, ভ্যাট-ট্যাক্স এবং নানা চার্জ মিলিয়ে ৬৫ হাজার ২২৫ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এর মধ্যে বছরে ৮৭৮ কোটি ঘনফুট এলএনজি আমদানিতে ৪৪ হাজার ২২৫ কোটি টাকা ব্যয় হবে। অর্থাৎ প্রতি ঘনমিটার এলএনজিতে ব্যয় ৫০ টাকা ৩৮ পয়সা, যার মধ্যে ক্রয়মূল্য ৩৬ টাকা ৬৯ পয়সা, আমদানি পর্যায়ে মূসক ৫ টাকা ৫০ পয়সা, অগ্রিম আয়কর ৭৪ পয়সা, ফাইন্যান্সিং ব্যয় ১ টাকা ৪৪ পয়সা, ব্যাংক চার্জ ও কমিশন ৫৯ পয়সা, রিগ্যাসিফিকেশন ব্যয় ১ টাকা ৮৬ পয়সা, অপারেশনাল ব্যয় ৫ পয়সা এবং ভোক্তা পর্যায়ে উৎসে কর ৩ টাকা ৫২ পয়সা (৭%)। দেশে কার্যরত বিদেশী গ্যাস কোম্পানির (আইওসি) গ্যাস কিনতে ব্যয় হবে প্রতি ঘনমিটারে ২ টাকা ৯১ পয়সা। বাংলাদেশ গ্যাসফিল্ড কোম্পানি (বিজিএফসিএল), সিলেট গ্যাসফিল্ড কোম্পানি (এসজিএফএল) এবং বাপেক্সের পরিচলন ব্যয় ধরা হয়েছে প্রতি ঘনমিটারে যথাক্রমে ৮৭.৯৮ পয়সা, ৩৩.৮৩ পয়সা এবং চার টাকা ৫৫ পয়সা। এ ছাড়া প্রতি ঘনমিটারে পরিচালন মার্জিন সঞ্চালন কোম্পানির (জিটিসিএল) ৮৬.৪৮ পয়সা, বিতরণ কোম্পানির ২৭.৪৯ পয়সা ধরা হয়েছে। প্রতি ঘনমিটারে পেট্রোবাংলার পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ছয় পয়সা, গ্যাস উন্নয়ন তহবিলে ৪৬.১৪ পয়সা এবং জ্বালানি উন্নয়ন তহবিলে ৮৮.৭০ পয়সা চার্জ ধরা হয়েছে। সরকারের হিস্যা হিসাবে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ধরা হয়েছে। এ কারণে ভোক্তাপর্যায়ে গ্যাসের দাম আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বাড়ানোর প্রয়োজন বলে জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিতরণ কোম্পানিগুলো অতীতে একবারে গ্যাসের দাম এত বৃদ্ধির প্রস্তাব করেনি। এমনিতেই করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে সবশ্রেণীর ভোক্তা ও শিল্প উদ্যোক্তারা নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে টিকে থাকার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে শিল্পোক্তাদের মুনাফার মার্জিন কমিয়ে পণ্য রফতানি করছে। এমন পরিস্থিতিতে গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে বিদ্যুতের দামও বেড়ে যাবে। একদিকে গ্যাসনির্ভর শিল্পগুলোর ব্যয় বেড়ে যাবে, একই সাথে বিদ্যুতের দাম বেড়ে গেলে পণ্যের উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যাবে। এতে পণ্যমূল্য আরো বেড়ে যাবে। এতে সাধারণের দুর্ভোগ যেমন বাড়বে, তেমনি উদ্যোক্তারাও প্রতিযোগিতার সক্ষমতা হারাবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2022 UK বাংলা News
Design & Developed By SSD Networks Limited
error: Content is protected !!